আর মাত্র ২দিন পরই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপুজো। আগামী ৯ অক্টোবর শুরু হচ্ছে ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপুজো। এরইমধ্যে প্রতিমা তৈরি কাজ শেষ করেছেন মৃৎশিল্পীরা। এখন শেষ মূর্হুতে চলছে রং-তুলির কাজ। রং-তুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গাকে সাজিয়ে তুলছে প্রতিমা শিল্পীরা। রমনা কালীমন্দির, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রাজারবাগ কালীমন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরসহ সারাদেশে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। সায়ংকালে ধূপের ধোঁয়া, ঢাক-ঢোল, উলুধ্বনি আর কাঁসর-মন্দিরার সঙ্গে ভক্তিমন্ত্রে মেতে উঠবে পূজা মণ্ডপগুলোতে।
এবার বাংলাদেশে দুর্গাপুজো নির্বিঘ্নে উদ্যাপন করতে কঠোর নিরাপত্তায় কাজ করছে বিজিবি, সেনা সদস্য ও কোস্ট গার্ড। শারদীয় দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে উপকূলীয় এলাকায় টহল ও নজরদারি করছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি সীমান্ত এলাকায় পুজো মণ্ডপে নিরাপত্তায় কাজ করছে বিজিবি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র্যাব, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা টহল জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে নিয়োজিত রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও। যেকোন সময় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিবে সেনা বাহিনী। প্রত্যেকটি পুজোমণ্ডপে আইপি ক্যামেরার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইউএনও অফিস ও থানা থেকে মনিটরিং করা হবে। সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও সেবা প্রদানের জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ বিশেষ টিম প্রস্তুত রয়েছে।
পুজোমণ্ডপের নিরাপত্তা বিধানে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ছাত্র-জনতাকে অন্তর্ভুক্ত করে মনিটরিং কমিটি গঠন করে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা কাজ শুরু করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে, এমন কোনো বক্তব্য বা গুজব ছড়ানোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার ইউনিট কাজ করছে। এছাড়াও প্রত্যেকটি দুর্গাপুজো মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ছাত্র-জনতাকে নিয়ে মনিটরিং কমিটি গঠনসহ মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।
ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ছোটবোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে এদিনই ভারতে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চড়াও হয় সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। এহেন অবস্থায় দেশে দুর্গাপুজো আয়োজন করা অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। নড়েচড়ে বসে অন্তর্বর্তী সরকার। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে শান্তিতে পুজো করার আশ্বাস দেয়া হয় তাৎক্ষণিকভাবে। দুর্গাপুজো যাতে আগেরমতো উৎসবমুখর পরিবেশে করা যায় সেই জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
